সিসি নিউজ।। নীলফামারী প্রতিনিধি নীলফামারীতে অগ্নিকান্ডে ১১ পরিবারের ২৫টি ঘর পুড়ে ছাই হয়েছে। শুক্রবার রাত ৯টার দিকে জেলা সদরের ইটাখোলা ইউনিয়নের পাটোয়ারীপাড়া গ্রামে এঘটনা ঘটে। বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো খোলা আকাশের নীচে মানবেতর জীবনযাপন করছে।
আজ শনিবার দুপুরে ওই গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে ক্ষতিগ্রস্ত রিকশা চালক দিলীপ রায়ের স্ত্রী মিনু বালা রায়কে পোড়া ভিটায় বসে বিলাপ করতে। অগ্নিকান্ডে সর্বস্ব হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তিনি। তার মতো দিশেহারা হয়ে পড়েছেন অন্যরা। নতুন করে ঠাঁই গোজানোর চেষ্টায় তারা ওই পোড়া ভিটার ছাই সরাচ্ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, রাত ৯টার দিকে গ্রামের দুলাল রায়ের বাড়ি থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এসময় দিলীপ, দিপু, সুবাস, বিপুল, সুকুমার, চন্দন, প্রতিমা, হিমেল, প্রদীপ ও বেলাই রায়সহ ১১ পরিবারের ২৫টি ঘর, আসবাব পত্র, ঘরে রক্ষিত ধান-চাল পুড়ে যায়। অগ্নিদগ্ধ হয়ে প্রতিমা রায়ের দুইটি গরু মারা যায়। খবর পেয়ে নীলফামারী দমকল বাহিনীর দুইটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ইটাখোলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হেদায়েত আলী শাহ ফকির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘ধারণা করা হচ্ছে বিদ্যুতের শর্টসাকিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। সন্ধ্যায় এসব পরিবারের বেশিরভাগ পুরুষ মানুষ বাজারে অবস্থান করায় ক্ষতির পরিমান বেড়েছে’।
নীলফামারী দমকল বাহিনীর কর্মকর্তা মকুল হোসেন বলেন,‘ দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নেভানো সম্ভব হয়। বিদ্যুতের শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমান আট লাখ টাকা’।
এদিকে আজ শনিবার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন সদর উপজেলা নির্বহী কর্মকর্তা মুবাশ্বিরা আমাতুল্লাহ। এসময় তিনি প্রতি পরিবারের ত্রাণ মন্ত্রলায়রে দুইটি করে কম্বল, ১০ কেজি করে চাল, ডাল, তেল, চিনি, লবনসহ রান্নার বিভিন্ন মসলার একটি করে প্যাকেট বিতরণ করেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মাঝে।